বাঁশি আর গানের বুলবুলঃ সায়ন মাংসাং একটি ভালোবাসার নাম

এক
আজ সায়ন মাংসাং এর একটা ইন্টারিভিউ পড়ছিলাম The New Age পত্রিকায়। পড়তে পড়তে চোখ ভিজে এল। উপরের দিকে তাকিয়ে সে জল রুখতে চাইলাম প্রাণপণ। পারলাম না! আনন্দের এই জল পৃথিবীর মাটি স্পর্শ করল।

সায়নের ইন্টারিভিউ এর এক কোণে লেখা, ” With a ray of hope, one of his uncles name Babul D Nokrek came up to assist this future star with lodging. Sayon greatly appreciate his contribution and is grateful towards him. With the helping hands by his side, Sayon Mangsang worked hard to make each and every penny worth. He turned days into nights and nights into days and raised himself to a zenith height today. In his words, ‘I’m very grateful towards my uncle and friends who helped me immensely when needed. I appreciate their contribution and having faith upon me. I hope to return the favour in a colossal way’.”

দুই

একজন গারো ছেলে বাঁশির মূর্ছনায় পুরো বাংলাদেশ মাতিয়ে রাখছে। তাবৎ লিজেন্ড শিল্পীদের সাথে স্ট্যাজে, টেলিভিশনের পর্দায় বাঁশি বাজিয়ে দর্শকদের মন, হৃদয়, ভালোবাসা জয় করছে। এমন দৃশ্য তো এখন নিত্যদিনের। একজন গারো হিসেবে তো বটেই, একজন গীতিকার হিসেবেও অনেক অনেক গর্বিত তাঁকে নিয়ে। গর্ব করার আরও অনেক কারণ রয়েছে।

সায়নকে আমি ঠিক চিনি না! আমি তাঁকে কখনও দেখেছি কি না মনে পড়ছে না। হয় তো দেখেছি তাঁর ছোট বেলায়! হয় তো দেখিনি। প্রায় ৯ বছর আমি দেশের বাইরে – হয় তো তখন সে খুব ছোট ছিল। আমি সাধারণত বিরল প্রতিভার মানুষ দেখলে তাঁদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করি। সহযোগিতার হাত বাড়াতে চেষ্টা করি। তাঁদের খোঁজ খবর নিই। কিন্তু সায়ন আমার নজরে খুব একটা আসে নি।

তিন
একদিন ফেইসবুকে সায়নের একটা স্ট্যাটাস পড়লাম। পড়ে মন টা হু হু করল। স্ট্যাটাস টা খুব গোছান, পরিপাটি; অনেকটাই এমন ছিল…

“অনেক অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা শহর এসেছিলাম! স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে, তাই
গ্রামে ফিরে যাচ্ছি আজ! বাঁশি বাজালাম, মানুষের মন জয় করলাম, হাততালিও
অনেক কুড়ালাম। কিন্তু বাঁশি থেমে গেলে কে মনে রাখে একজন
বাশিওয়ালার কথা? কেউ না!

গ্রামে ফিরে যাচ্ছি! ফিরে যাচ্ছি মায়ের কাছে। আজ ঢাকায় আমার আর থাকার
জায়গা নেই! ভালো থেকো স্বপ্নের ঢাকা শহর। অনেক বড় বংশী
বাদক হওয়ার স্বপ্ন আজ বিবর্ণ হয়ে গেছে।
ফিকে হয়ে গেছে সব;
আমি হেরে গেছি!”

পুরো স্ট্যাটাস টা মনে নেই। কিন্তু ঠিক এরকম একটি হৃদয় ছোঁয়া স্ট্যাটাস! খুব কম ছেলে – মেয়েকে এত সুন্দর স্ট্যাটাস লিখতে দেখেছি! আমাদের পাশের গ্রামের শংকর ম্রং দা’র এর ভাগ্নে কঙ্কণ ম্রং এমন স্ট্যাটাস লিখত। আমি শুধু মাত্র তার স্ট্যাটাস পড়ার জন্য প্রতিদিন তার অয়ালে ঢুঁ মারতাম যদিও সে ফেইসবুকে আমার বন্ধু ছিল না! তার স্ট্যাটাস পড়লে মনে হত পুরো এলাকার খবর নেয়া শেষ! কঙ্কণ একদিন না বলে চলে গেল না ফেরার দেশে! কঙ্কণকে বলাই হয় নি সে গল্প!

তিন

প্রথমে সায়নের স্ট্যাটাসের প্রথম লাইন আর শেষ লাইন পড়ে স্ক্রল ডাউন করে বাইরে চলে গেছি। ফিরে এসে খুঁজে খুঁজে আবার পড়লাম স্ট্যাটাস টা। আমি বার বার স্ট্যাটাস টা পড়ি! আর ভাবি, মনে মনে আমারও একটা স্বপ্ন ছিল সেটা হয়ে উঠেনি! কেউ যদি একটু পাশে দাঁড়াত সে সময় সেটা অসম্ভব ছিল না। আমিও হয় তো কোন পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকতাম আজ! পড়াশুনার চেয়ে টিউশনিতেই বেশি সময় চলে গেছে — কারণ নিজের পড়াশুনার খরচ নিজেকেই আয় করতে হয়েছে, করতে হয়েছে প্রতিদিন অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম!

ছেলেটি স্বপ্নের কথা বার বার লিখেছে! এই বিষয় টা আমাকে খুব তাড়িত করল। আমি তখনও জানি না সে
কোথাকার ছেলে? কার ছেলে? কী করে?

তার খোঁজ নিতে শুরু করলাম। দেখলাম ছেলে টা আমাদের পাশের গ্রামের যোগিন দার ছেলে! আমাদের ছেলেবেলায় মিঃ বেনেডিক্ট মাংসাং (প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং আমার ধর্ম বাবা), মিঃ যোগিন নকরেক, মিহির মৃঃ স্যার, কচিন রিছিল স্যার, বিষ্ণু নকরেক স্যার (আমার প্রাইমারী স্কুল বেলার প্রিয় শিক্ষক, আমার হিরো, আইডল), বিশিষ্ট কবি জেমস জর্নেশ চিরান স্যার, ধীরেশ চিরান স্যার, অধ্যাপক সমরেন্দ্র রিছিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নেলসন রেমারাই ছিলেন আইডল! কারণ আমাদের ছেলে বেলায় আমাদের এলাকায় এবং আমাদের ছোট জগতের সামনে এই কয়জনই ছিলেন শিক্ষিত, স্মার্ট কিছু তরুণদের অন্যতম।

আমি সায়নকে সহযোগিতা করতে চাই শুনে আমার পরিচিত অনেকেই হাসাহাসি করল! কারণ কি জানতে চাইলে বলল, “ওও সায়ন! ওত একটা বাউন্ডেলে ছেলে। পড়াশুনা করে না! টই টই করে ঘুরে বেড়ায়! একটাকাও যদি খরচ কর তার জন্য, সেটাও অপচয় হবে!”

কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে বলল, “জলে টাকা ফেলবা কেন? টাকা বেশি হইসে?”

চার
খোঁজ নিয়ে জানলাম, সায়ন ঢাকার যে বাসায় থাকত সেখানে সে থাকা খাওয়ার খরচ দিতে পারত না! আর অগোছাল একটা ছেলে – কে রাখবে? আমিও হয় তো রাখতাম না! কিন্তু তাঁর স্বপ্ন পূরণে একটু খরচ করলে হয় তো ছেলে টা একদিন তাঁর লক্ষে পৌঁছাতে পারবে – এমন একটা বিষয় খচ খচ করছে! আমি হৃদয় দিয়ে ছেলেটাকে বুঝার চেষ্টা করলাম। একটা বিষয় খেয়াল করলাম, সে মিথ্যে বলে না। অনেক মানুষকে চিনে, অনেক মানুষ তাঁকে চিনে! সদ্য কৈশোর পেরুনো একজন ছেলে, স্কুল শেষ করেছে মাত্র। বয়স আর কত? সে তো বড় শিল্পীদের সাথে বাঁশি বাঁজাতে চায়, মানুষকে আনন্দ দিতে চায়! কাজ টা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব তো নয়!

পাঁচ
আমি জব ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং করি। ব্লগিং করি। অনেকের ব্লগ এর আর্টিকেল লিখে দেই কয়টা ডলারের জন্য। ওয়েব ডিজাইন করি, ওয়েব ডেভেলপ করি, কারও কারও অয়েব সাইট দেখে দিই। ছোট-বড় কোম্পানির সফটয়্যার, ওয়েব এপ্লিকেশান সেলেনিয়াম টেস্ট অটোমেশান দিয়ে টেস্ট করে দেই। রোবট ফ্রেমওয়ার্ক এর প্রোগ্রামিং কোড লিখে দিই! আর সারাদিন ছাত্র পড়াই অনলাইনে! ইংরেজি পড়াই, পাইথন প্রোগ্রামিং পড়াই, ওয়েব ডিজাইন পড়াই, সফটাওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইন টেস্ট অটোমেশান উইথ জাভা প্রোগ্রামিং পড়াই। টাকা দিলেও পড়াই, না দিলেও পড়াই। ছাত্র পড়ান টা আমার নেশা হয়ে গেছে! আমার গিন্নি থেকে শুরু করে বাসার সবাই একটু বিরক্ত আমার মাস্টারিতে! কেন ফ্রী পড়াই? কেন এত সময় ধরে পড়াই? কেন এত সস্তা পড়াই ইত্যাদি!

আমি বলি, “I’m contributing for the world community to make the Mother Earth a better living place! I work for the wider world!” আমার এখন ৫০ টি দেশে বেড়ানর ঠিকানা হয়েছে! কারণ আমি এ পর্যন্ত ৫০ টি দেশের ছাত্র পড়িয়েছি। আগামী ২ বছরে ২০০ টি দেশে আমার ছাত্র থাকবে – এমন স্বপ্ন দেখি আমি! পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষ যখন আমাকে তার সফলতার কথা বলে, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলে, আমার মনে হয় আমিও এই পৃথিবীর জন্য কিছু করছি, কিছু দিতে পারছি!”

আমার বউ আমাকে পাগল ভাবে! আমি মনে কিছু করি না!

যেহেতু ছাত্রদের যে যা পারেন তাই দেন, মাস শেষে বাড়তি টাকা হাতে থাকে না! সায়নের স্বপ্ন পূরণে হাত বাড়ালে আমার সংসারের খরচ কমিয়েই তা দিতে হবে।

আমি প্রতিদিন বাইরে কফি খাওয়া ছেঁটে দিলাম। বাসায় নিজে কফি বানিয়ে খাওয়া শুরু করলাম কয়টা ডলার বাঁচানোর জন্য। ইন্টারনেট বিল দিতাম ১৫০ ডলার, সেটা গতি কমিয়ে ৮৫ ডলারে নামিয়ে আনলাম। মোবাইল এর জিবি কমিয়ে ৪০ ডলারের জায়গায় ২৯ ডলার করলাম! সিদ্ধান্ত নিলাম সায়নের ঢাকায় থাকা – খাওয়ার ব্যবস্থা আমি করব! কিন্তু দেখলাম সবাই ওকে এক নামে চিনে! অনেকেই হেসে হেসে আমাকে বলল, “সায়নের ঢাকায় থাকার অভাব? ওর তো ঢাকার সব বাসা-ই তাঁর!” হাসিগুলো তাচ্ছিল্যের বুঝতে পারি!

একজন তো বলেই ফেলল, ” সায়নের ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা আপনার করতে হবে না। আপনার প্রয়োজন হলে সায়ন
কে বলেন, সে বাসা ঠিক করে দিতে পারবে আপনার জন্য!”

ছয়
কিন্তু আমি ঠিক করলাম সায়নকে আমি ঢাকায় থাকা – খাওয়ার খরচ দিব। আমি গুছিয়ে ফেলেছি খরচ কিভাবে ম্যানেজ হবে! সে যেন বড় শিল্পী হয়! আমি তাঁকে ফেইসবুকে নক করলাম! ফোন দিলাম, জিজ্ঞেস করলাম তার স্বপ্ন টা আসলে কী? সে বলল, সে ঢাকায় থেকে গান করতে চায়, বাঁশি বাঁজাতে চায়। বড় বড় শিল্পীদের গানে বাঁশিতে সুরের লহরী তুলতে চায়, গানগুলো আরও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে চায়। বড় বড় শিল্পীদের সাথে স্ট্যাজ শো, টিভি শো’তে বাঁশি বাজিয়ে মানুষকে আনন্দ দিতে চায়! আমি উৎসাহ দিলাম। দেখলাম সে খুব নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছে! মন টা ভেঙ্গে গেছে। সে বলল, “আমার স্বপ্ন শেষ, আমি হেরে গেছি, কাকা! আমাকে দিয়ে আর হবে না মনে হয়! ঢাকা থাকতে না পারলে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে না। ঢাকা থাকার টাকা কিংবা জায়গা আমার কোনটাই নেই!” আমি তাঁকে বললাম, তুই পারবি! আমি তোর সাথে আছি। তুই ঢাকা ফিরবি। আবার বাঁশি বাজান শিখবি। গান গাইবি। আমি তোর পাশে আছি। তুই পারবি – দুই একটা বছর কষ্ট কর, দেখবি তুই দাঁড়িয়ে যাবি!”

সায়ন ঢাকায় ফিরে এল! দেখলাম তার কী উৎসাহ! কী স্পিরিট! আমি সাত সমুদ্র তের নদীর ওপাড় থেকে অবাক হয়ে সব দেখি! তার মধ্যে স্বপ্ন পূরণের আগুন দেখি! বারুদ দেখি! দেখলাম কী স্বপ্ন জয়ের ফুলকি তার চোখে মুখে! কী তেজ তার সুরের আর সাধনার!

আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম সে আমাকে চিনে কি না? সে বলল, “কাকা, আমি আপনাকে চিনি!” এবার গিন্নিকে
জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, “আমাদের জলছত্রের ছেলে, চিনব না কেন? আমাদের স্কুলে কিছুদিন পড়েছে! ও তো গান বাজনা করে, ভালো গান করে, গীটার বাজায়, বাঁশি বাজায়! যত্ন পেলে ছেলে টা ভাল করত! কিন্তু কেন?” আমি বললাম, “এমনি! ফেইসবুকে দেখি ত! তাই জিজ্ঞেস করলাম!”

আমি সায়নকে বললাম, “কাকু, তোমার যতদিন সময় লাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার, ততদিনই আমি তোমাকে ঢাকায়
থাকার ব্যবস্থা করব। তোমার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত! কিন্তু তোমাকে পারতে হবে। প্রয়োজনে আমি বিশ্বের সেরা বংশী বাদকদের কোর্সগুলো কিনে দেব। তুমি সরকারী সঙ্গীত কলেজ অথবা ছায়ানট-এ ভর্তি হও! খুব বেশি সেখান থেকে হয় ত শিখতে পারবে না, কিন্তু সেখানে গেলে উপরে উঠার সিঁড়ি পাবে, নেটওয়ার্ক পাবে বড়দের সাথে কাজ করার! যেদিন দেশে দাঁড়িয়ে যাবে, সেদিন যুক্তরাষ্ট্রেও আমরা তোমাকে নিয়ে প্রোগ্রাম করব, আমি ব্যবস্থা করব।”

বছর খানেক পর আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়লাম। ডাক্তার রোগ ধরতে পারেন না! শরীর টা দিন দিন কেমন নিস্তেজ হয়ে পড়ল! কাউকে বলতেও পারলাম না। আমার ডাক্তার এ ডাক্তার ও ডাক্তারের কাছে পাঠাচ্ছেন! দাঁতের ডাক্তার ধরে ফেললেন ‘দাঁতের উপরের ছোঁয়ালের শেষ দাঁতের সাথে টিউমার! দাঁত ফেলতে হবে সে টিউমার অপসারণ করতে গেলে! ৭২ ঘন্টার মধ্যেই অপসারণ করতেই হবে!

অপারেশান হল! ডাক্তার ছাত্র পড়ান কয়েক মাস বারণ করলেন। কারণ কথা বললেই আমার খুব কাশি হত!

ছাত্র পড়ান নিষেধ! কথা বলা বারণ। পড়লাম বিপদে! আমার আয় কমে গেল। সায়নকে বললাম, তোকে কয়টা মাস কষ্ট করতে হবে! ডাক্তার জানালেন দাঁতের গাম রিপেয়ার করা লাগবে, আরও ২ টা অপারেশান করতে হবে আরও! বিপদ ছাড়ছেই না! দাঁতের চিকিৎসা অপারেশান মানে পথে বসিয়ে দেয়া এই দেশে!

সায়ন বলল, “কাকা, আমি ত এখন বড় বড় শিল্পীদের সাথে টিভিতে, স্ট্যাজে শো করছি এখন – একটু ইনকামও হচ্ছে, আপনি চিন্তা কইরেন না। চলে যাবে!

আমি ভেবেছিলাম সে আমার সাথে রাগ করবে। কিন্তু দেখলাম তার রাগ বা অভিমান নেই! সে সব সময়ই বলে,”আপনি আমার দুঃসময়ে আমার পাশে ছিলেন, আমি ত এখন অনেকটাই দাঁড়িয়ে গেছি। আমি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ!”

আমি খেয়াল করেছি, ছেলেটা অনেকের কথা বলে। যারা, তার বন্ধু ও পরিবার, এর আগে তাঁকে থাকতে দিয়েছে। তাঁদের কাছেও সে কৃতজ্ঞ!

সাত
আমিও সুস্থ্য হয়ে উঠলাম। কয়েক মাস পর সায়নকে ফোন দিলাম। সায়ন জানাল, আমাকে আর খরচ দিতে হবে না কাকা। আমি এখন আমার খরচ আনতে পারি।

আমাদের আরেক জন ছোট ভাইয়ের সাহায্য দরকার। মান্দি ছেলে! ভাল গান করে। ঢাকায় থাকার জন্য মেস ভাড়া দেওয়ার মত অবস্থা নেই! আমি তাঁকে হেল্প করছি অল্প অল্প!

সায়নের কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেল। সায়ন এখন অন্যকেও সাহায্য করতে পারছে! অবিশ্বাস্য। গল্পের মত মনে হলেও সত্যি। কয়েক বছর আগে যে টাকার অভাবে ঢাকায় টিকতে না পেরে গ্রামে ফিরে যাওয়া ছেলেটি এখন আরেক অসহায় ছেলের গ্রামে ফিরে যাওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে! এর থেকে আর কী বড় কাজ হতে পারে?

আমি সায়নকে বললাম পুরোটা আমি দিতে পারব না, কিন্তু ছেলেটার অর্ধেক খরচ আমি দেব! সেও যেন অর্ধেক টা আয় করার চেষ্টা করে! আমাদের ত্রয়ী সংগ্রাম শুরু।

আমরা জানি এখানেও আমরা আরেকটি গল্প লিখছি—কষ্টের গল্প, সংগ্রামের গল্প,এবং গল্প টা হবে সাফল্যেরও।

উপরে উঠে গেলে আমরা আর নিচের দিকে তাকাই না। সায়ন উপরে উঠে গেছে — নিচের ছোট ভাইটার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বড় মনের মানুষ তো সেই যে নিজে দাঁড়ায় আর অন্যকেও দাঁড়াতে সাহায্য করে। সায়ন শুধু গানের আর বাঁশির এক বুলবুলের নাম নয়, এক বড় হৃদয় আর এক ভালোবাসার নাম।

এগিয়ে যাও বেটা! তুই পেরেছিস। আমি জানি কত ঝড়, কত রোদ পোহাতে হয়েছে তোকে!

দেখিস আমরা মেঘের দেশ আমেরিকাতে তোকে নিয়ে শো করব একদিন! সেদিন আর বেশি দূর নয়!

তুই পেরেছিস বেটা! অভিবাদন। অভিনন্দন। আরও অনেক দূর যেতে হবে ছেলে! মাত্র শুরু। তুই পারবি!

Please click here to read the whole interview!

Sharing is caring! Please share with friends & family if you find this website useful

2 thoughts on “বাঁশি আর গানের বুলবুলঃ সায়ন মাংসাং একটি ভালোবাসার নাম”

  1. You’re really a great man 💞💞💞💞

    Many good wishes for you……!!!

    All the best sayon Mangsang 💗💗💗💗

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *