ফ্রিল্যান্সিং-আল্টিমেট আইটি উদ্যোগক্তা এবং গারোদের বিশাল সম্ভাবনা

সুবীর জেভিয়ার নকরেক
সি ই ও, নকরেক-আইটি, বাংলাদেশ



ফ্রিল্যান্সিং-আল্টিমেট আইটি উদ্যোগক্তা এবং গারোদের বিশাল সম্ভাবনা।

আপনাকেই বলছি—
হ্যা আপনাকেই বলছি- আপনি মনস্থির করুন, যা করতে চাচ্ছেন তা করেই এর শেষ দেখবেন এই দৃঢ় মনোবল রাখুন।
ইদানীং যুবরা প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। যুবদের অনুরোধে আমার আজকের এই আইটি বিষয়ক বিশদ লেখা!

লেখাটা যাদের জন্য প্রযোজ্য শুধু তারা সেভাবে গ্রহণ করবেন এবং লেখাটা অবশ্যই গারোকেন্দ্রিক, এবং যারা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে অত্যধিক দক্ষ তারা এড়িয়ে যেতে পারেন। অবশ্য দক্ষ বলতে, এ সেক্টরে গরোদের ৫০ এর উর্ধে হবেনা, যা এক্সপেরিমেন্ট করে জানা গেছে। তাই এ লেখাটা গারোদের জন্য সময়ের দাবী বলে মনে করি।

প্রযুক্তির উন্নয়নে আমাদের দেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে ঘোষিত। দেশের অনেক জায়গায় আইটি পার্ক নির্মিত হচ্ছে। মহেষখালীকে ডিজিটাল আইল্যান্ড ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে প্রায় প্রতিটি জেলায় সরকারী উদ্যোগে আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে দেশে ১২টির বেশি আইটি পার্ক নির্মিত হচ্ছে, যা প্রক্রিয়াধীন, শীঘ্রই এখানে চাকরীর সুযোগ পাবে লক্ষ লক্ষ দক্ষ আইটি প্রেমীরা।

ভেতর থেকে কিছু লিখি–
পড়াশুনার মূল লক্ষ্য কি চাকরী করা? না, চরিত্রগঠন। চরিত্রগঠনে মান্দি সমাজ সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। (আমার এক জাপানীস বন্ধুর কথা)।
মান্দি সমাজ এনজিও নির্ভর, মানবিক উন্নয়নে বিশ্বাসী এবং পড়াশুনা শেষ মানেই এনজিও এর চাকরীতে নিশ্চিত পোস্টিং-এ বিশ্বাসী, ইউনিভার্সিটি শিক্ষক এবং এক মান্দি এনজিও স্পেশালিস্ট এর বক্তব্য এটা।



সরকার নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এনজিও কিন্তু লাপাত্তা হতে শুরু করেছে। এক সময় ৫/৬ বছরে এনজিও এর সংখ্যা একদম কমে যাবে। ইতিমধ্যে অনেকের চাকরী নেই কারণ এনজিও প্রজেক্ট নেই। এটা গভীরভাবে ভাবার বিষয়।
সরকার ১৭কোটি মানুষের জন্য আলাদাভাবে কর্ম সংস্থান করতে পারবেনা। ভাল চাকরীর আশায় পড়াশুনা করা, এ গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ১০০০ পোস্টের জন্য ৩লক্ষ্ চাকরিপ্রার্থী, এটা একটা প্রহসন কিন্তু চরম বাস্তবতা। শুধু ১০০০-ই কি যোগ্য থাকে? না। এটার বিকল্প ভাবতে হবে। সমাধান আছে।
মাস্টার্স পাশ করে ১০/১২ হাজারের চাকরীর জন্যও পরীক্ষা নামক যুদ্ধ করতে হয় তাও অধিকাংশই পায়না।
যারা টেকনিক্যাল লাইনে, যেমন বিউটিশিয়ান, নার্স, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তারা পড়ালেখা শেষের আগেও জব পেয়ে যায়। কিন্তু আমাদের গারোরা টেকনিক্যাল লাইনে খুব কম। সাধারণ সেক্টরে পড়াশুনা শেষে চাকরীর জন্য হাহাকার করি। সাধারণ সেক্টরে পড়ে কোন দক্ষতা অর্জন হয়না, কিঞ্চিৎ মুখস্ত জ্ঞান আহরণ হয়।

যারা গারো শিক্ষিত যুবক-যুবতী/ চাকরী করতে করতে অতিষ্ট কিংবা চাকরীর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে বিশাসী তাদের জন্য অনেকের অনুরোধে কিংবা নিজের তাগিদে এই লেখা।
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ২০২১ সালে আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান হবে ২০ লক্ষাধিক। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬ লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার এবং ফ্রিল্যান্সার থেকে অসংখ্য আইটি উদ্যোক্তা হয়েছে। তন্মধ্যে গারো/মান্দি প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার ১৫+! উদ্যাক্তা ১/২ জন।এর মধ্যে অল্প সময়ে নকরেক আইটি বাংলাদেশের গারোদের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানরুপে বিস্তার লাভ শুরু করেছে।
আবারো বলি মান্দি প্রফেশনাল দক্ষ ফ্রিল্যান্সার উদ্যোক্তা সবমিলিয়ে ২০ জন।



দাদা/আংজং/মামা/কাকা/ভাইস্তা/ভাইয়া আমি ফ্রিল্যান্সার হতে চাই। ঘরে বসে কাজ করতে চাই। হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতে চাই, অন্য দেশের কারেন্সি এনে দেশের জন্য কিছু করতে চাই!
——-এটা আমার কাছে অনেকের সহভাগিতার এক অংশ!

কি কাজ পারেন? আমি টাইপিং পারি, ডাটা এন্ট্রি পারি। ইংরেজী পারো? না, কিন্তু বুঝি!!
আচ্ছা। এ সেক্টরে কাজ করাকে দুটো ভাগে ভাগ করে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়! প্রফেশনাল স্কিল এবং সফট স্কিল।(বিস্তারিত আরো পরে) ডাটা এন্ট্রি কোনো প্রফেশনাল স্কিল নয়।

দাদা আমাকে কয়েকটি ভালো প্রতিষ্ঠানের নাম বলেন যেখানে গেলে আমি আর্ন করতে পারবো!
অফ যান। মান্দি দিসারাংনি ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই কম্পিউটার বেসিকে দুর্বল এবং ইংরেজীতে আমরা আরো দুর্বল থাকি। এজন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সবার সাথে খাপ খাওয়াতে২ ২/৩ মাসের কোর্স শেষ। কোর্স শেষে কাজ ঠিকমত না পেরে হতাশ হয়ে ছেড়ে দেওয়া মান্দির সংখ্যা কম নয়।
তাহলে উপায়?



এগুলোর মর্মার্থ ধারণ করেই এরই জন্য গারোদের মধ্যে সর্বপ্রথম নকরেক আইটি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। যেখানে শিক্ষালাভ করে অনেকেই বর্তমানে অনলাইনে আর্ন করতে সক্ষম হচ্ছে। এখানে শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বিভিন্ন দেশ থেকেও অনেকেই জয়েন করেছে নকরেক আইটিতে। এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তিনটি বিশ্বনন্দিত কোর্স চালু করেছে অনলাইনে। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এবং জীবনের জন্য ইংরেজী শিক্ষা। জানুয়ারী ২০১৮তে এর অফলাইন কোর্স চালু হবে।যুক্ত হচ্ছে আর একটি কোর্স- সফটওয়ার টেস্টিং। অফিস এবং বিস্তারিত নকরেক আইটি ওয়েবসাইটে বিদ্যমান।
এছাড়া যারা শিখতে আগ্রহী তারা পরিচিত বড় দাদা কিংবা বন্ধুদের সাথে আলোচনা কিংবা সময় করে তাদের কাছে শিখতে পারেন। এক্ষেত্রে দু’পক্ষের কমিটমেন্ট আবশ্যক। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ২৫/৩০ জন স্টুডেন্টকে ঠিকমত টেক কেয়ার করতে পারেনা, ফলে সাকসেস রেট ৫%। তবে তারা মন্দ শিক্ষা দেয় তা বলছিনা। যারা বেসিক থেকে শুরু করে তাদের দরকার স্পেশাল টেককেয়ার।

আমাদের গারোদের এ ব্যাপারে কোনদিন কেউ বিস্তারিত বিশদভাবে আলোচনা করেনি।এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরবর্তী খ্রীস্টিয় গঠন প্রশিক্ষণগুলোতে চরিত্রগঠন নিয়ে রীতিমত আলোচনা করা হয়, ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়(বাস্তবিক দৃষ্টকোণ থেকে দেখলে ফলাফল তেমন নেই)। এক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য Survival of the fittest এর জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষাদান/সহভাগিতা, আইটি সেক্টরে আমাদের বিপুল সম্ভাবনার কথাগুলো প্রাক্টিক্যালি জানান দিলে আমরা অনেক এগিয়ে আসতে পারতাম।
৬ লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার এবং অসংখ্য উদ্যোক্তারা যখন আইটি সেক্টরে অবদান রেখে ন্যাশনাল জিডিপিতে বিদেশী কারেন্সি এনে অবদান রেখে চলছে তখনো আমাদের অনেকের এখনো সন্দেহ কিভাবে আসলে কম্পিউটারে বিদেশ থেকে টাকা আসে! আসলেই কি সম্ভব! হ্যা। আমরাই ত এর প্রমাণ।সেংবো মান্দিরাং!



একবার এক এনজিও কর্মী ফ্রিল্যান্সার কমরেডকে খোটা দিয়ে বলেছিল, এগুলা দিয়া কি পোশায় মিয়া? চাকরী ধরো- দ্যা ফাইনাল ইজ-সেই কর্মীর চাকরী উধাও এবং সেই ফ্রিল্যান্সার উদ্যোক্তা হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এবং বর্তমানে ঘরে বসেই যেন নিউইয়র্ক আমেরিকার কাজ করছে পার্মানেন্টলি, যার বর্তমান বেতন ১২০০ ডলার এর অধিক যা বাংলাদেশী টাকায় এক লক্ষাধিক।

আমাদের মান্দি সমাজে প্রপার ডিরেকশন এবং গাইডেন্স এর অভাব। অভিভাবকেরা কোনদিন এ বিষয় নিয়ে ভাবেননি। সরকার এ সেক্টরে বিশাল বিনিয়োগ করেছে। তারপরো ভাবতে শিখেনি। শুধু গদবাধা নিয়মে জোর করে পড়ানোতেই সীমাবদ্ধ। যার খেলাধুলাতে ভাল দক্ষতা তাকে সেখানে পাঠান, আইটি সেক্টরে ইচ্ছা থাকলে সেখানে পড়ান, গান-বাজনায় মনোযোগ থাকলে সে সেক্টরে পড়ান। সবাই ত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হইতে চায়না মি: অভিভাবক।
সরকার বর্তমানে বিশাল বিনিয়োগ করেছে আইটি সেক্টরে এবং দক্ষ লোকও খুজছে। ইনফ্যাক্ট সরকারীভাবে আমাকেও মেন্টরিং এর জন্য ডেকেছে। মান্দিরাংনি পারটিশিপেশন ২/৩ জন ছাড়া চোখে পড়েনি।
যারা এ সেক্টরে অনেক আগে থেকে আছে তারা ব্যস্ততা্র দরুণ সময় করে এসব বলতে পারেনি কিংবা মান্দি সমাজ না এর প্রয়োজনবোধ করেনি, অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছে গারোরাংদে আইলসা, লাগিমুনা দংনা মাঞ্জাহা। হ্যা এখানে অত্যধিক ধৈর্য্যধারণ করতে হয় প্রথমাবস্থায়।
সময় এখন আমাদের সবার জন্য। বলতে গেলে মান্দিরাং/গারোরাং বাংলাদেশে সকল জাতিসত্তার চেয়ে শিক্ষিতের হার এর দিক দিয়ে এগিয়ে, নাইবা উল্লেখ করি উচ্চশিক্ষার কথা।



আপনি ছাত্র/ছাত্রী হতে পারেন। কলেজ শেষে যদি ৫ ঘন্টা ফেসবুকে না বসে যেকোন এক দিক দিয়ে দক্ষতা আনেন তবে পড়ালেখা শেষে আর চাকরী খুঁজতে হবেনা, চাকরীই আপনাকে খুজবে।
চাকরীজীবী হলে চিন্তা করতে পারেন আমার টোটাল ইনকাম থেকে আমি সামান্যতম পরিমাণ অর্থ দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইনভেস্ট করতে পারি কিনা।(যাহা উন্নত বিশ্বের মানুষ অহরহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে করে চলেছে)
যারা চাকরীর পিছনে ছুটছেন, এমনো আছেন চাকরী পরীক্ষা দিতে দিতে ২/৩ লক্ষ টাকা শেষ করেছেন কিন্তু মনপুত হচ্ছেনা। (আমি জানি এমন কেউ আছে) ইংরেজী ভাল জানেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না কিভাবে শুরু করবেন। হতাশা ঝেরে দক্ষতা বৃদ্ধি করুন, আপনিই একসময় চাকরী দেওয়া শুরু করবেন।
যারা ভাবছেন শুরু করবেন কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছিনা, তাদের জন্য গারো উদ্যোক্তা এবং ফ্রিল্যান্সার ভাইয়েরা সর্বদাই সহযোগী পরায়ন। শুধু সঠিক উপায়ে নক করতে হবে।
সবকিছু শুরুতে স্বপ্ন ছিল। আমি এখন কাউকে স্বপ্ন দেখাইনা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাটছি। একদিন আন্তর্জাতিক মানের দালবাত্তা আইটি প্রতিষ্ঠান দংনো মান্দিরাংনিবা। যেখানে সিংহভাগ থাকবে মান্দি আর মান্দি। ভেবেছিলাম একদিন বিদেশে গিয়ে মেন্টরিং করাব, কাল অফার আসলো বিদেশে বসে অনলাইনে এক পন্ডিত শিখবেন আর আমি ঢাকা থেকে কিংবা গ্রামে গিয়েও শিখাতে পারবো,ইন্ডিয়া থেকে একজন শিক্ষক অনুরোধ জানালেন তাকেও আইটি শিক্ষা দিতে, আমেরিকা থেকে এক ডার্ক আমেরিকান শেখার কথা ব্যক্ত করলেন, টেলকী গ্রাম থেকেই কয়েকজন শিখছে ঘরে বসেই, অথচ আমি ঢাকাতে, পৃথিবীটা কত ছোট হয়ে গেছে।
আমি এখনো শিখছি, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দক্ষতা বৃদ্ধি করছি, কিন্তু শেখানোর এবং সহভাগিতার ইচ্ছাটাও আমার প্রবল। আসুন দক্ষ হই, টিমে কাজ করি, শীঘ্রই সফলতা আসবে।



সাইন্স নিয়া পড়তে হবে এমন কোন বালাই নাই, যে কেউ পারবে স্বদিচ্ছা থাকলে।বাসায় কম্পিউটার আছে? ইন্টারনেট কানেকশন আছে?
প্রবল আগ্রহ আছে??মোটামুটিভাবে ইংরেজী পারি?
#দাওইন_নাংনি_নাম্বাত্তা_সময়।

#ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) / মুক্তপেশা বলতে বোঝায় নিজের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে কাজ করা ( আবিধানিক ), আর কাজ গুলো বেশিরভাগ সময়েই বিদেশি ক্লাইন্ট থেকে নিয়ে করতে হয় । স্বাধীন ভাবে মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ নিয়ে তা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে করে দেওয়া অথবা নিজের সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রডাক্ট( App, Theme, Plugin, Design etc. ) তৈরি করে তা মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে । যদিও বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাপক আপপ্রচারণার দৌলতে ও আমাদের দেশের বেশিভাগ মানুষের টেকনোলজির ব্যাপারে যথাযত ধারনা না থাকায় অনেকে ক্লিক-বাজীকেই ফ্রিল্যান্সিং মনে করে ভুল করেন।তবে বর্তমানে সরকারের উদ্যোগে আইটি সেক্টরে বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার কথা আর অজানা নয়।

অফলাইনে সরকারী কাজ পাওয়াকে অনেকে সোনার হরিণ মনে করে। এখানে অনলাইনে বড় প্রজেক্টের কাজ পাওয়াটাকে চাদকে কাছে পাওয়ার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অফলাইনে কাজ পেতে হয়তো ২/৩ লক্ষাধিক এপ্লিকেন্ট এর সাথে কম্পিটিশনে যেতে হয়, তবে এখানে আন্তর্জাতিকভাবে কাজের জন্য কোটি কোটি ফ্রিল্যান্সারদের সাথে কম্পিটিশন করতে হয়। তবে সঠিক পরিশ্রম এবং ধৈর্য্য থাকলে অফলাইন এবং অনলাইন কাজ দুটোই সহজ হয়ে যায়।




অনেকেরই ধারনা ফ্রিল্যান্সিং মানেই অনেক ডলার এবং অনেক টাকা, হ্যাঁ সত্যি অনেক টাকা! কিন্ত তা অবশ্যই অনেক পরিশ্রমের ফল। ফ্রিল্যান্সিং কোন আঙুলফুলে কলা গাছ হবার মাধ্যম নয়। হ্যাঁ আপনি অফিসে যেভাবে কাজ করেন, এখানেও ঠিক তেমনি কাজ করতে হবে শুধু পার্থক্য হচ্ছে কাজটা আপনি বাসায় বসে কিংবা যেখানেই যান না কেন, এমনকি কোথাও ভ্রমণকালীন সময়েও করতে পারবেন সাথে যদি থাকে ইন্টারনেট এবং ল্যাপটপ। যতখানি কাজ করবেন ঠিক ততখানি পারিশ্রমিক পাবেন আর কাজের মান হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের, কারণ পারিশ্রমিকও ডলার দিয়েই গণ্য হচ্ছে।

শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই মনস্থির করতে হবে। যেকোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। যেখানে ২০-৩০ হাজার এর চাকরীর জন্য অনার্স মাস্টার্স পড়েছেন এবং শিক্ষাজীবনকালে অতিবাহিত করেছেন ২০ বছরেরও অধিক, এখানে এক বছর না হয় একদম মনস্থির করেই দক্ষতা অর্জন করলেন, এরপর দেখবেন ২০-৩০ বছরের পড়াশুনার পর যে চাকরী পাচ্ছেন এখানে এর তিনগুণ পাবেন।
শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই মনস্থির করতে হবে। যেকোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। যেখানে ২০-৩০ হাজার এর চাকরীর জন্য অনার্স মাস্টার্স পড়েছেন এবং শিক্ষাজীবন্কালে অতিবাহিত করেছেন ২০ বছরেরও অধিক, এখানে এক বছর না হয় একদম মনস্থির করেই দক্ষতা অর্জন করলেন, এরপর দেখবেন ২০-৩০ বছরের পড়াশুনার পর যে চাকরী পাচ্ছেন এখানে এর তিনগুণ পাবেন।



নিম্নোক্ত বিষয়াবলী নিজের মধ্যে আনতে হবে যদি আপনি শুরু করতে চান একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে।

• প্রবল ধৈয্য ধারন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
• যেহেতু বেশিরভাগ সময়েই বিদেশি ক্লাইন্টএর কাজ করতে হবে তাই আপনাকে অবশই যোগাযোগের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ (ইংলিশ) এ ভাল দক্ষতা থাকতে হবে । দক্ষতা না থাকলেও এ ব্যাপারে চর্চা রাখা আবশ্যক।

• শুধু ইংলিশ এ ভাল দক্ষতা থাকলেই হবে না, ভাল কজের সাথে সাথে তুখোড় কমিউনিকেশন দক্ষতা প্রয়জন হবে। শুধু এর কারনেই অনেকে কাজ করে শ্বাস ফেলার সময়টুকু পান না আর অনেকে ভাল কাজ জানলেও কাজ পান না / ক্লাইন্ট ধরে রাখতে পারেন না ।

• বাস্তবতা উপলব্ধি করুন, ফ্রিল্যান্সিং মানেই পরিশ্রম ছাড়াই লাখ লাখ টাকা এই ধারনা পরিহার করতে হবে ।

• শুরুর আগেই ভেবে নিন কতটুকু সময় দিতে পারবেন, তাই পর্যাপ্ত সময় না থাকলে আপাতত কাজ শুরু না করাই ভাল। আপাতত যা সময়পান তা টুকিটাকি শেখার কাজে লাগান।
• ভাল ভাবে কাজ শিখতে আপনাকে মিনিমাম ১ বছর হাতে নিয়ে শুরু করতে হবে, হয়ত এর মধ্যে আপনি টুকি-টাকি কাজও করতে পারবেন অবশ্যই তা আপনার শেখার গতির উপর নির্ভর করবে সময় হলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনি ছোট-খাট কাজের জন্য প্রস্তুত কিনা।



বর্তমানে মার্কেটপ্লেস এ অনেক ধরনের কাজ আছে একটু গুগল করলেই পাবেন, নিচে কিছু কাজের লিস্ট দেওয়া হলোঃ

• Application Development
• Web Design and Development
• Graphic Design and video editing
• Data Entry
• Business Services
• Cms Development
• Lead Generation

• Article Writing and Web Content
• SEO
• Customer Service
• Administrative Support
• Networking & Information Systems

সবকিছু বুঝে শুনে আপনার যদি মনেহয় আপনি সব দিক থেকে ঠিক আছেন তবেই শেখার জন্য যে কোনো একটি বিষয় ঠিক করুন। কারন অনেক গুলো বিষয় একসাথে শেখার চাইতে একটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে তুলনামুলক বেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন আর মার্কেটে শুধুমাত্র দক্ষরাই টিকে থাকে ।



এখন বলতে পারেন, “ভাই কথা তো অনেক বললেন, আসল কথা ( ইনকাম ) বলেন !! ”

ইনকাম নিয়ে মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে যেমন,
• টাকা ইনকাম করতে পারবতো?
• টাকা মার যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা?
• কীভাবে টাকা হাতে পাব?
ইত্যাদি… ইত্যাদি…

কেন পারবেন না ? ঠিকঠাক কাজ জানলে কাজের অভাব হবেনা আর কাজ থাকলে ইনকম নিয়ে ভাবতে হবেনা। আর টাকা মার যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই, সঠিক মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ নিলে টাকা আপনি ১০০% পাবেন আর তা আপনার ব্যাংক এর মাধ্যমেই তুলতে পারবেন!! খুব সহজ তাই না? আরও আছে পেওনিয়ার মাষ্টার কার্ড, প্রায় সব মার্কেটই এই কার্ড সাপোর্ট করে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই টাকা তুলতে পারবেন যে কোন Master Card সাপোর্টেড ATM থেকে পৃথিবীর যে কোন দেশে।এছাড়া আরও অনেক পেমেন্ট মেথড আছেঃ
• PayPal
• Skrill
• Payza
* Credit Card
* International Visa Card ইত্যাদি…

তবে বর্তমানে আমাদের দেশে পেওনিয়ার, Skrill, Payza সাপোর্ট করে, যদিও PayPal দেশে সার্ভিস চালু করেছে বলছে, কিন্তু পেপালের জুম সার্ভিসটাই চালু শুধু।

সবশেষে বলতে পারি, কোন সন্দেহ নেই যে পৃথিবীর প্রথম সারির সন্মানজনক পেশা গুলোর একটি ফ্রিল্যান্সিং আর স্বাধীন-মনা যে কারো প্রথম পছন্দ। যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক পেশা তাই আপনার কাজের মান ও নিজেকে সেরকম করে গড়ে তুলতে পারলেই সফলতার চরম শিখরে পৌছাতে পারবেন।



এখন অনেকেই শুধু কম্পিউটারে কাজ করে অনলাইন থেকে আয় করাকেই ফ্রিল্যান্সিং মনে করেন। ফ্রিল্যান্সিং সম্বন্ধে ইতিমধ্যে মুক্তপেশা এবং স্বাধীবভাবে কোন কাজ করাকে বুঝিয়েছি, এক্ষেত্রে একজন শিক্ষক যে কিনা কারো আন্ডারে কাজ না করে শিক্ষকতা করেন, একজন ফটোগ্রাফার যে নিজের ইচ্ছাস্বাধীনভাবে ফটোগ্রাফি করে জীবন ধারণ করেন, একজন সাংবাদিক যে কিনা কারো ধার ধারেন না, অর্থাৎ নিজের ইচ্ছাস্বাধীনভাবে নিজের এই পেশা পরিচালনা করেন, তিনি বা তারাও ফ্রিল্যান্সিং করেন। এক্ষেত্রে বলতে হবে আমি ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনার কিংবা ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডিজাইনার। শুধু ফ্রিল্যান্সার বললে নির্দিষ্ট করে বুঝানো হচ্ছেনা।

যারা ঘরে বসে শিখে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান না, তারা একেকজন বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পার্মানেন্ট জব করতে পারেন।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রফেশনাল সেক্টরে দক্ষ হয়ে আপনি বিশ্বনন্দিত পেশাগুলো বেছে নিতে পারেন এবং নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন এবং আইটি সেক্বিটরের বিভিন্ন বিশ্বনন্দিত পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন।
সেটা হতে পারে একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপার, আর্টিকেল রাইটার, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, এপ ডেভেলপার ইত্যাদি।



আইটি উদ্যোগক্তা হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে আইটি রিলেটেড কাজ জানতে হবে। এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং করে কিংবা উপরোক্ত বিশ্বনন্দিত পেশাগুলোতে নিজেকে নিয়োজিত রেখে একসময় নিজেকে আইটি উদ্যোগক্তারুপে বিশ্বের দরবারে প্রকাশ করার সৎ সাহস করতে পারেন এবং চাকরী করবোনা চাকরি দেবো এ মহান কাজটা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করতে পারেন, যা কিনা বর্তমান সমাজে সবচেয়ে বেশি দরকার।

এখন মুল কথা হচ্ছে কোথায় শিখবো কিভাবে শিখবো! বিস্তারিত জানার জন্য গারোদের একমাত্র আইটি প্রতিষ্ঠান নকরেক আইটি এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

বিস্তারিত জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

এনজিও সেক্টরে কাজ করে মানবিক উন্নয়নের আগে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গারো জাতি অগ্রণী ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে এবং মুল জনগোষ্টীর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে এবং টিকে থাকতে টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্টের সাথে আইটি সেক্টরে নিজেদের জড়িত করা ছাড়া আর বিকল্প নেই।



গারো জাতি আইটি সেক্টরের প্রতি বিমুখ না হয়ে এতে সম্পৃক্ত হোক, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আরো শক্তিশালী হোক, প্রযুক্তির আশীর্বাদে নিজেদের জীবনযাত্রার মান আরো উন্নত করুক এই প্রত্যাশা করি।







Sharing is caring! Please share with friends & family if you find this website useful

10 thoughts on “ফ্রিল্যান্সিং-আল্টিমেট আইটি উদ্যোগক্তা এবং গারোদের বিশাল সম্ভাবনা”

  1. ধন্যবাদ ভাই সুবির, আপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো। আমিও আপনার সাথে একমত, আর কতদিন চাকুরী নামক হরিণের পিছনে ছুটব আমরা? সময় হয়েছে উঠে দাড়ানোর। নিজে কিছু করুণ অন্যকেও সহযোগীতা করুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *