ফেইসবুকের খোলা স্ট্যাটাস




এক

বোধ করি তখন ২০০১ বা ২০০২ সাল। আমি মধুপুর ডিগ্রী কলেজে অধ্যাপনা করি।

কিছু অজানা বিষয় লিখব। আমার জীবন টা ফটোগ্রাফি কীভাবে উলট পালট করে দিয়েছিল, সে নিয়েই লেখা।

আমি ছেলেবেলায় ফটোগ্রাফি করতাম! খুব শখের একটা কাজ ছিল। বাড়ির কেউ তা পছন্দ করত না। ছেলে’ক্যামেরাম্যান’ হয়ে যাবে – এই ভয়ে আমার বাবা আমাকে কোনদিন ক্যামেরা কিনে দেয় নি! আমার হাতে ক্যামেরা দেখলে বাবা কেমন যেন রাগ রাগ নিয়ে তাকাতেন! বাড়ি ফিরলে তাঁর রুমে আমাকে একা ডাকতেন। বলতেন,”তুমি অন্যের ছবি তুলবে কেন? তুমি ক্যামেরাম্যান হবে কেন? তুমি অনেক পড়াশুনা করবে, জাজ – ব্যারিস্টার হবে, তোমার ছবি তোলার জন্য ডজন খানেক ক্যামেরাম্যান দাঁড়িয়ে থাকবে! সাংবাদিকরা ছুটোছূটি করবে। বুঝছ?” আমি বলতাম, “কিন্তু আমার যে ইচ্ছে করে ক্যামেরা ডিরেক্টর হব!” বাবা বলতেন, “গুড, ডিরেক্টর হবে, কিন্তু ক্যামেরাম্যান নয়! তোমার ছবি যখন কেউ তুলে সে ক্যামেরাম্যান আর যার ছবি তুলে সে ডিরেক্টর! তুমি হবা ডিরেক্টর, ক্যামেরাম্যান না! আমি যেন তোমার হাতে ক্যামেরা আর জীবনে না দেখি!”

Learn Selenium Webdriver with Java & Earn from Home Anywhere in the World from Babul Nokrek on Vimeo.

Learn Selenium Webdriver with Java & Earn from Home Anywhere in the World is LIFE CHANGING Course Designed, Developed & Instructed by Babul D' Nokrek.

Babul D' Nokrek is an IT Instructor at AccentTech (please visit http://www.accenttech.us) in the United States of America.

Please contact: https://www.fiverr.com/babulnokrek

বাবার সামনে ক্যামেরা ধরার সাহস আমার আর ছিল না। কিন্তু আমার ছবি তোলা শেখা বন্ধ থাকে নি। আমার বড় মাসি দিনিলা থেকলা নকরেক (প্রথমে স্টাফ নার্স পরে স্কুল টীচার ছিলেন। এখন হলিক্রশ সিস্টার) আমাকে ইয়াশিকা ক্যামেরা কিনে দিয়েছিলেন। তখন ক্যামেরার দাম ছিল ১৬শ টাকা। আশির দশকে ১৬শ টাকা আমাদের হোস্টেল খরচ ৬ মাস চলে যেত! সে বিবেচনায় অনেক টাকা। প্রাইমারী টিচারদের বেতন ছিল ৩০০-৫০০ টাকা। সে বিবেচনায় মাসির ৪-৫ মাসের বেতন!

হাই স্কুলে উঠে লিও দা (লিও গমেজ, দিলীপ হিউবারট গমেজ এঁর ছোট ভাই) কে পাই। উনি ২-৩ বছরে বড়। খুব ভাল ফটোগ্রাফার। তাঁর পেছনে ছুটি ক্যামেরার কাজ কারবার শেখার জন্য। পরবর্তীতে আমাদের টিচার ফিলো ম্রং (মাসি ডাকতাম) এঁর স্বামী নেলসন রেমাকে (মেসো) ছবি তুলার গুরু হিসেবে পাই।

ক্লাশ সেভেনে উঠে মধুপুরের শাপলা স্টুডিও’র মালিক এবং ফটোগ্রাফার হীরা ভাইকে পাই ওস্তাদ হিসেবে। তাঁর অখানে স্টুডিওতে চুপ করে বসে থাকি প্রতি শুক্রবার হোস্টেল পালিয়ে!

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি সোসাইটি’তে ভর্তি হই। পিয়ারো ভাই ছিলেন আমাদের ফটোগ্রাফি’র শিক্ষক। অসম্ভব ভাল ছবি তুলতেন।

আমি কেবল বিএ অনার্স পরীক্ষা দিয়েছি। মেহেরুন্নেসা মহিলা কলেজে-এর প্রিন্সিপাল ইংরেজির প্রভাষক খুঁজছিলেন। তাঁকে আমার ছবি তোলার ওস্তাদ হীরা ভাই জানান, “ভাল টিচার হবে কি না জানি না। ভাল ছেলে, ভাল ছাত্র চাইলে আমি সন্ধান দিতে পারি!”

প্রিন্সিপাল একদিন আমার সাথে দেখা করে কথা বললেন! কিন্তু বলেন নি তিনি শিক্ষক দেখতে এসেছেন! পরে ডেকে পাঠালেন। আমারও বয়স কম। ২৩-২৪ হবে হয় ত! মহিলা কলেজের প্রতি একটা টান অনুভব করি! না বলতে পারলাম না। ভাবলাম মাস্টার্স শেষ না করার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে খন্ডকালীন অধ্যাপনা করব! কিন্তু সেই যে শুরু করলাম আর শিক্ষকতা ছাড়তে পারি নি!

ফটোগ্রাফি না করলে কী আমার সাথে হীরা ভাইয়ের সাথে দেখা হত? মেহেরুন্নেসা কলেজে পড়ান হতো? অধ্যাপনা করা হত?

হত বলে মনে হয় না। জীবনটা উলট – পালট করে ফেলেছে এই ফটোগ্রাফি আর শিক্ষকতা জীবন। আমি হতে চেয়েছি ভাল পাঠক, ভাল লেখক। ভেবেছিলাম শিক্ষকতা করলে সেটি করার সময় হবে। হয় নি!

যাহোক, ২০০০ সালে মধুপুর ডিগ্রী কলেজে ইংরেজি’র প্রভাষক হিসেবে জয়েন করলাম। মূলত সেখানে প্রফেসার গোলাম ছামদানী স্যার এবং প্রিন্সিপাল হেকমত আলী স্যারের আগ্রহতেই চলে আসা। আমি এই ২ জন মানুষকে আমার পিতার মত পেয়েছি। অধ্যাপক এবং সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে পেয়েছি বড় ভাই আর বন্ধুর মত!

Learn Selenium Webdriver with Java & Earn from Home Anywhere in the World from Babul Nokrek on Vimeo.

একদিন কলেজের অনিয়ম নিয়ে ছাত্র – ছাত্রীরা ক্লাশের মধ্যে আমার কাছে নালিশ করছিল! আমি তাদের বলছিলাম, “আমি নিজেই থাকি নদীর জলে – ডাঙ্গায় বাঘ আর নদীতে কুমির অবস্থা! জলে থেকে কুমীরের সাথে লড়াই করা বোকামী। তারপরও আমি এটুকু বলতে পারি, বিষয় টি যাতে আর না ঘটে তা আমরা সবাই মিলে দেখব!”



Click on any Digital Camera to find thousands of Cameras that you love!


তারপর কথা প্রসঙ্গে ওদের বলছিলাম, “আমার একটা ভাল কলেজ করার ইচ্ছে আছে মধুপুরের শাল-অরণ্যের ভেতর। সেখানে খেটে খাওয়া গরীব মানুষের ছেলে – মেয়েরা পড়বে। ওরা অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। দেশ ও পৃথিবীর কল্যাণে কাজ করবে।
বলতে পারো একটা ছোট স্বপ্ন! জানি না, হবে কি না। কিন্তু স্বপ্ন দেখি!”

দুই

আজ রনু ফকির নামে একজন ছেলে ফেইসবুকে আমাকে বলছে, “স্যার, আপনার সাথে আমার কথা বলতে খুব ইচ্ছে করে, সময় হবে?”



Click on any Digital Camera to find thousands of Cameras that you love!

অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়েছি ২০১০ সাল থেকেই। কিন্তু শিক্ষকতা ছাড়ি নি! অনলাইনে এখনও ছাত্র পড়াই। চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্ডিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, কানাডা, আফ্রিকা, নাইজেরিয়া এবং আমেরিকার ছাত্রও আছে তালিকায়। এঁদের কেউ কেউ আইটি স্প্যাশালিস্ট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, ব্লগার, লেখক, গায়ক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ইত্যাদি।

One of my Professional Blogging Students – RichyOoi from Babul Nokrek on Vimeo.

To contact with Mr. RichyOoi and book him for his services, please click here!

কিছু ক্লাশের ভিডিও দিচ্ছি যেন আমার ছাত্রদের সম্পর্কে একটা আইডিয়া পাওয়া যায়। পৃথিবীর মানুষ কীভাবে নিজেদের আপডেট রাখার জন্য মরিয়া হয়ে মানুষের কাছে ছুটে, টাকা খরচ করে শুধুমাত্র নতুন কিছু শেখার জন্য। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করতে চান। কাজে নতুনত্ব আনতে চান। কেউ কেউ ২-৪ ঘন্টার ছাত্র হয়ে যান ডিজিটাল বিশ্বে কী ঘটছে সেটুকু খোঁজ নেওয়ার জন্য।

Software Testing with Alex, UK – 02 from Babul Nokrek on Vimeo.

Mr. Alex is from the United Kingdom and Engineer By Profession! To watch the video, please use password: BabulAlex123

আমি ব্যক্তিগতভাবে ৬০০শ’র উপরে কোর্স করেছি! তাই আইটি বিশ্ব সম্পর্কে বেশ দখল চলে এসেছে – ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার টেস্টিং প্রসেস, সেলেনিয়াম টেস্ট অটোমেশান, টেস্ট ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট লাইফ সাইকেল, টেস্ট একজেকিউশান, প্রফেশনাল ব্লগিং, ইন্টারনেট বিজনেস, অনলাইন কনসালট্যান্সি, সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং, টিশার্ট ডিজাইনিং এই বিষয় গুলোতে আমি সারাদিন বক্তব্য দিতে পারি। যারা আমার ইন্টারভিউ নেন, তাঁরা সাধারণত এই প্রশ্ন করেনঃ

– আপনি কয় ঘন্টা ঘুমান? এতগুলো বিষয় কীভাবে শিখলেন?
– আগামী ২-৫ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আমি উত্তরে বলি, ১) আমার যতটুকু না ঘুমালে শরীর খারাপ করে না, ততটুকু ঘুমাই। আর বাকী সময় পড়ি আর লিখি!



Click on any Digital Camera to find thousands of Cameras that you love!

২) আগামী ২-৫ বছরে প্রজেক্ট লীড হিসেবে নিজেকে দেখি!

উলটো প্রশ্ন করেন, তাহলে আমাদের বসের কী হবে? আমাদের কী হবে? আপনাকে নিয়ে আমরা কী বিপদে পড়ব?

– আমি বলি, আমাদের প্রজেক্ট লীড তখন কোম্পানির মালিক থাকবেন। আপনারা হয়ে যাবেন সিনিয়র কন্সালট্যান্ট! তাঁরা হাফ ছেড়ে বলেন, জিনিয়স এন্সার!

সেদিন হাতে সময় ছিল না একদম, আফ্রিকান একজন ছাত্র (নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার) অনলাইনে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবুও বললাম, “তোমার ফোন টা দাও!”

তিন

ফোন দিলাম …

– হ্যালো স্যার, আমি রনু। আমার কথা মনে আছে? আমি মধুপুর কলেজে আপনার ছাত্র ছিলাম।

– মধুপুর কলেজ? তোমার আর কোন নাম?

– আমি জুবায়ের…

– জুবায়ের ফকির রনু?

– জি স্যার।

আফ্রিকার ছাত্র টিকে বললাম ৩০ মিনিট পর ক্লাশ দেব। তিনি বললেন, “আপনার প্রয়োজন হলে, আরেকটু সময় নেন!”

T-shirt&HoodieDesignStore from Babul Nokrek on Vimeo.

T-shirt Design Class with Ms. Sharlene, Canada who is currently working as a Dental Assistant & Online Business Owner! Password: BabulDNokrek123

চার



Click on any Digital Camera to find thousands of Cameras that you love!

রনু ফকির অনেক কথা মনে করিয়ে দিল। কিছুক্ষণের জন্য ২০০০-২০০৩ সালের মধুপুর কলেজে ফিরে গেলাম! অনেক ছাত্র – ছাত্রী, শিক্ষকদের কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল ইকো – পার্ক, লড়াই – সংগ্রাম – আন্দোলন, বীর শহীদ চলেশ রিছিল আর শহীদ পীরেন স্নালের কথাও।

Software Testing with Mike-02 from Babul Nokrek on Vimeo.

Mr. Mike, a student from Nigeria who is currently working for a multi-national company in Canada! Password: BabulMike123

মিছিলে পুলিশের বৃষ্টির মত গুলি! পীরেন শহীদ হয়ে গেল। মনে পড়ল বীর উৎপল নকরেক এর কথাও, যে মিছিলের সামনে থেকে গুলি খেয়ে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেল। সে আর নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কোনদিন হাটবে না! মনে পড়ল আমার আরেক ছাত্র অন্তর মানখিন এর কথাও, যে মিছিলে গিয়ে তাঁর দাঁত হারিয়েছিল!

Online Business Consultation-Nigeria from Babul Nokrek on Vimeo.

Online Business Consultation Class with a Student from Ghana. Password: BabulSteve123

Software Testing with Stephen-02 from Babul Nokrek on Vimeo.

Manual Software Testing Class with a Student from Ghana. Password: BabulSteve123

To contact with Mr. Steve and book him for his services, please click here!

ঐ সময় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মধুপুরের শালবন ‘কেটে, সাফ করে নতুন বন’ বানাবেন। আমার কিছু বন্ধু, আজিয়া, বাগাছাস, গাসু, আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ এবং আমি তখন এর প্রতিবাদ করি। আন্দোলনে – মিছিলে মধুপুর উত্তাল! আন্দোলন ছাড়তে হবে নতুবা কলেজ ছাড়তে হবে — এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় আমার উপর। আমি কলেজ অধ্যাপনায় ইস্তফা দিয়ে দিই।

পাঁচ

আমি চুপ ছিলাম …

রনু বলে গেল …

– স্যার মনে আছে? আপনার একটা স্বপ্ন ছিল মধুপুর বনে একটা ভাল কলেজ করবেন?

– হু

– এখনও কী সে স্বপ্ন দেখেন?

– হুম! স্বপ্ন কী কখনও মরে?

– কিন্তু আপনি না থাকলে কেমনে হবে? স্যার, চলেন স্যার দেশে ফিরে যাই! কলেজটা হোক। আপনি না থাকলে …

– তোমরা নিজের স্বপ্ন মনে করে একটা কলেজ খুলে ফেলবা

– আমিও তো দেশের বাইরে।

– কোথায়? কী …

– আমি সৌদি আরবে। একটা কন্সট্রাকশন ফার্মের ম্যানেজার

– তোমরা অনেকেই এখন দেশের বাইরে। আমরা সবাই মিলে টাকা দিলে একদিন হয়ে যাবে কলেজ …

– আপনি জানেন আমার কী স্বপ্ন ছিল, স্যার?

– না, কী ছিল জুবায়ের?

– যেদিন আপনি ক্লাশে বললেন, আপনার স্বপ্ন মধুপুর বনের ভেতর গরীব মানুষের জন্য একটা কলেজ করবেন, সেদিন থেকে আমিও সেই কলেজে অধ্যাপনা করার স্বপ্ন দেখতাম!

– আহা! তাই না কি?

– জি স্যার। আমি ম্যানেজমেন্ট – এ অনার্স মাস্টার্স করেছিলাম। আমার মত ছাত্র কী এতদূর আসতে পারতাম যদি একটা স্বপ্ন না দেখতাম? আপনি আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন স্যার …

– তাই! তাহলে দেশে ফিরে গিয়ে কোন একটা কলেজে পড়াও। আমি খুব খুশি তুমি এতদূর আসতে পেরেছ।

– না স্যার, আমি তো মধুপুর বনের ভেতর গরীব মানুষের জন্য যে কলেজ হবে, সেখানে পড়াবার স্বপ্ন দেখেছি, অন্য কোন কলেজে না …

ছয়



Click on any Digital Camera to find thousands of Cameras that you love!

আহারে ছেলে টা! আমি কী মনের ভুলে এমন আরও কাউকে এমন মিছে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম? খুব কষ্ট লাগল। কেমন নস্টালজিক হয়ে উঠলাম। খুব লজ্জাও লাগছে, মনে হল।

আমার মনে হল, আমি লজ্জায় একটু লাল হয়ে গেছিলাম। রনু ফকির, তুমি ক্ষমা করে দিও তোমার অযোগ্য এই শিক্ষককে। আমি তোমাকে মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম। ক্ষমা করে দিও।

সাত

যদি আরও কাউকে এমন মিছে স্বপ্ন দেখিয়ে থাকি, তাঁরাও যেনো ভুলে যায়, ক্ষমা করে দেয়।

বাবুল ডি’ নকরেক




Click on any Digital Camera to find thousands of Cameras that you love!

Sharing is caring! Please share with friends & family if you find this website useful

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *