নকরেক আইটি পরিবারের আনন্দভ্রমণ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ দর্শন

সুবীর জেভিয়ার নকরেক

জাহাজের গেইটপাস আর টিকিট টেকনাফে পাওয়ার পর তন্ময়ের দীর্ঘশ্বাস-আহ-যাত্রা তবে স্বপ্নীল দ্বীপে আজ!


সবার কাছে যেন স্বপ্ন ছিল, স্বপ্নপূরণের সময়টা এসে গেল ২২ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৮। নকরেক আইটি গ্রুপে ২ সপ্তাহ আগে থেকেই পোস্ট করা ছিল সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের কথা। অনেক লম্বা ট্যুর এবং মোটামুটি খরচসাপেক্ষ বিধায় অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করলেও ভাগ্যবান ভাগ্যবতী ৭ জন মিলেই সাফল্যমন্ডিত সফর হলো সেন্টমার্টিনে।


সেন্টমার্টিনে পৌছার পর প্রত্যকের বাধ ভাংগা উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল সবাই বুঝি খুজে পেল আপন গন্তব্য এবং এতদিনের সকল স্বপ্ন বুঝি সফল হলো।
এই সফরে অনেক প্রোগ্রাম ছিল, তন্মধ্যে বাইসাইকেল কম্পিটিশন, ফানুস উড়ানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্বিকিউ পার্টি, লটারী ড্র, বীচ দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ছিলো সবার কাছে স্মরণ করে রাখার মত অন্যতম আয়োজন।


সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দকমান্দা পড়ে সমুদ্র নৃত্য ছিলো সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। নকরেক আইটি এর ইউটিউব চ্যানেলে শীঘ্রই ভিডিওগুলো আপ্লোড হবে বলে জানানো হয়েছে।


সবাই নিজেদেরকে অনেক ভাগ্যবান এবং ভাগ্যবতী মনে করেছে যে তাদের জীবনে এই প্রথমবার তারা স্বপ্নের দারুচিনি দ্বীপে ভ্রমণ করতে পেরেছে এবং সুস্থ সুন্দরভাবে ফিরে আসতে পেরেছে। 



দারুচিনি দ্বীপ নামক একটি হোটেলে খাওয়ার সময় বৃষ্টি জুই রিছিল ত আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছে, ইস, এত সুন্দর সুন্দর হরেক রকমের টেস্টি মাছ খেয়ে ত সবাই সুন্দর আর স্বাস্থবতী হওয়া শুরু করছে। তিনি আরো বলেন, এক মাস আগে থেকেই ঘুমালেও আমি শুধু দারুচিনি মুভির গানটা শুনতাম এবং সেই কবেই আমার মন দারুচিনি দ্বীপ এসে গিয়েছিল, আজ যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। বুঝলাম স্বপ্নও সত্যি হয়।


তার এমন উচ্ছাস দেখে সবাই অনেক আনন্দিত এবং সবাই নিজ নিজ সহভাগিতা তুলে ধরতে কুন্ঠাবোধ করেনি।
এদিকে মুনমুন নকরেক সিল্ক্রিং সমুদ্র বলুন, বীচ বলুন কিংবা সেন্টমার্টীনের উল্লেখযোগ্য লোকেশন যেখানেই যায় সেখানেই তার আনন্দের বাধ ভাংগা উচ্ছাসটা ফেসবুকে লাইভে এসে সহভাগিতা না করলে যেন জমেইনা। তিনি নিজেই বলে ফেললেন, আমি ফ্যাতা ফ্যাতা অর্থাৎ বারংবার সহভাগিতা করছি মনের অজান্তেই। এর আগেও মুন কক্সবাজার গিয়েছিল কিন্তু তার কাছে সেন্টমার্টিন যেন পুরোটাই অন্য এক অদ্ভুত সুন্দর বাংলাদেশ যা কিনা কেউ ভিডিও কিংবা ছবিতে দেখে অনুধাবন করতে পারবেনা, না দেখলে ভ্রমণপিপাসু মানুষের সারাজীবনের মিস হবে বলেও মনে করেন মুন। 



সবাই নিজেকে সময় দেওয়া অপেক্ষা সবার সাথে আনন্দ সহভাগিতাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, ভ্রমণে অংশগ্রহণকারী অনেকেই পরস্পরকে মুখোমুখি চিনতেন না, শুধু ইন্টার্নেটে পরিচয় কিন্তু ভ্রমণ সময়কালে কারো যেন বিন্দুমাত্র মনে হয়নি কেউ কাউকে আগে থেকে চিনেনা, এ যেন আগে থেকেই চিরচেনা বন্ধন, এ বন্ধন নকরেক আইটি পরিবারের বন্ধন।



তন্ময় রিছিলের বাঁধভাঙ্গা আনন্দ বিশ্লেষণের বুঝি সাধ্যি নেই কারো, তন্ময় বিচে গিয়ে ক্ষনিকের মধ্যে ঝাপাঝাপি করছে সমুদ্রে, ডিগবাজি দিচ্ছে, আবার ক্ষণিকেই কোথা থেকে যেন অনেকগুলো ডাব নিয়ে এসে সবাইকে বিলি করছে আর আবার ক্ষনিকেই হারিয়ে যাচ্ছিলো বিশাল জলরাশির মাঝে। তার ভাষ্যমতে, আমি নকরেক আইটি পরিবারের প্রতি এতটাই কৃতজ্ঞ যে আমার স্বপ্নপূরণ হয়েছে যে তা আমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। কিভাবে যে সময়গুলো পার হয়ে গিয়েছে আমি টেরই পেলাম না, ফিরে এসেও ঘুমের মধ্যে শুধু সেন্টমার্টিন এর সৌন্দর্য ভাসে আর ঢেউগুলো ডাকে, এসো তন্ময় আবার এসো। তন্ময় কথাগুলো একনাগারে বলে যাচ্ছিলো মূল্যায়নের সময়।



মজার ঘটনা যেমন বেশি বেশি ঘটেছে তার মধ্যে একটা চিন্তার বিষয় ছিল এই যে, বিপদের আচ করলে বিপদ যেন ঝেকে বসে। ভ্রমণকালে নকরেক আইটি এর প্রতিষ্ঠাতা সুবীর নকরেক বলেছিলেন ঠাট্টাচ্ছলে, কেউ যদি হারিয়ে যায়, তবে নিম্নোক্ত গানটি গাইলেই তাকে সবাই মিলে খুজে পাবে,
মন চায় মন চায়
যেখানে চোখ যায় সেখানে যাবো হারিয়ে।


সেন্টমার্টিনে পৌছে বিচ সাইকেল প্রতিযোগিতার জন্য পরেরদিন সকালে বলা হলো, ছেড়াদ্বীপে বাইসাইকেল কম্পিটিশন হবে। প্রতিযোগিতা সঞ্চালনার দায়িত্ব ছিল জ্যোতি রিছিল মনা এর। ক্যামেরায় চার্জ ছিলনা বিধায় নকরেক আইটির মেন্টর সবাইকে বললেন আস্তে আস্তে সবাই বিচে একসাথে চলে যান। সমস্যা হলো সবাই সাইকেল চালাতে পারলেও মনা সাইকেল কম চালাতে পারতো বিধায় সে সাইকেল নিয়ে আস্তে আস্তে হেটে রওনা দেওয়াতে সবাই যে বিচে গেল সে সে বীচে না গিয়ে বিপদজনক একটা বিচে চলে গিয়েছিল, যেখানে আগে থেকেই সতর্ক করে রাখা লাল নিশানা দিয়ে।
১০ মিনিট পর ক্যামেরা চার্জ দিয়ে যখন নকরেক আইটির সিইও দেখে বীচে সবাই আছে কিন্তু মনা নেই, সে সবাইকে জিজ্ঞেস করতেই বলে যে মনা আস্তে আস্তে আসবে বলেছে। মেন্টর সুস্থ মাথায় চিন্তা করে কোন সময় ব্যয় না করে বললো, এভাবে তাকে তোমরা একা রেখে এসে ভুল করেছ। বিন্দুমাত্র দেরী না করে মেন্টর নিজে যখন মনাকে ফোন দিল তখন মনা বলে সে ছেড়াদ্বীপের দিকে একা এগুচ্ছে!



মেন্টর অবাক হয়ে তন্ময়কে বললো, তন্ময় তুমি লাল নিশানা রাখা বিচে যাও আমি অন্য বিচে যাচ্ছি। এদিকে তন্ময় এবং মেন্টর দুজন সব জায়গায় খুজলো যেন মনার দেখা মিলছেই না। মনা ফোন করে বারংবার বলছে আমি বিচেই আছি নিরাপদেই আছি। এদিকে সাইক্লিং করে মেন্টরের প্রায় পুরো সেন্টমার্টিন ঘুরা শেষ। মনার ফোন–তন্ময়কে দেখেছি।
এরপর শুরু হলো মনাকে নিয়ে কিছুক্ষণ আনন্দকরা, এ যেন হারানো মেষ খুজে পাওয়ার অনাবিল আনন্দ। 


মনা এক সময় বলেই ফেললো, মেন্টর সাহেব আপনিতো বলেছেন কেউ হারিয়ে গেলেও ওই গানটি গায়লেই আপনি খুজে পাবেন, আমি মনে মনে গাইছিলাম মন চায় মন, যেখানে চোখ যায় সেখানে যাবো হারিয়ে। 


মেন্টর সাহেব হাসি ধরে রাখতে না পেরে বলেই দিলেন, এইটাকি আমাকে পরীক্ষার জন্য ছিলো কতটুকু আন্তরিক নকরেক আইটি পরিবার? মনা কিছুক্ষণ নীরব থেকেই বললো, না সত্যি আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলাম 🙂 তবে আন্তরিকতা নিয়ে আমার সন্দেহ নেই।




মনাকে খুজে পাওয়া গেল, এবার শুরু হলো বিচ সাইকেল কম্পিটিশন। মনাই বিচারক, মনা সবাইকে ডিরেকশন দিলেন, তন্ময় শেষ মাথায় থাকবে সেখান থেকে রাউন্ড দিয়ে এসে আর এক মাথা থেকে যে ঘুরে এসে নির্দ্বিষ্ট দাগ পার করতে পারবে সেই চ্যাম্পিয়ন হবে। জ্যোতি মনা শুরু করলেন, 5-4-3-2-1 Go.


বীচে সাইকেল চালানো ছিল নার্স সেংমির কাছে একটি স্বপ্নের মত। তার যেন সকালটা ছিল স্বপ্নপূরণের সকাল। কম্পিটিশনে সবচেয়ে সরব দেখা গেল সেংমিকেই। সাইকেল কম্পিটিশন শুরু হলো এবং অনেক নাটকয়ীতার মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন হলো বৃষ্টি জুই রিছিল। ভিডীও নকরেক আইটি এর ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাবে।ইউটিউবে গিয়ে Nokrek IT লিখে সার্চ দিলেই সবাই দেখতে পাবে।
সেংমি কম্পিটিশনে দ্বিতীয় হওয়াতেও তার আনন্দের কোন কমতি নেই, সেংমি পুরো ট্যুরজুড়ে যেন নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করলো। অনেক বিচক্ষণ এবং সাহসী নারী সেংমি হাউই যার মধ্যে নেতৃত্ব বর্তমান। তার আনন্দ যেন ভেতরে ভেতরে বিশালাকার ধারণ করছিল কিন্তু কাউকে যেন বুঝতে না দিই এমন ভাব। কিন্তু শেষতক আর যেন এ আনন্দ ভেতরে রাখা গেলনা, বিচে গিয়ে প্রথম দৌড়াদৌড়ি যেন শুরু হলো সেংমিকে দিয়েই। এক লাফেই যেন তার সমুদ্র জয়। অন্যদিকে প্রথমে দকমান্দা পড়ে নাচের জন্য অনীহা হলেও ভিডিওতে দেখা গেল সবচেয়ে বেশি আনন্দ যেন সেংমিই করেছে।




সেংমি বলেন, আসলে কেউ সাহস করে এমন ভালো উদ্যাগ নেয়না, নকরেক আইটি এই উদ্যোগ না নিলে আমি হয়তো কখনো আসতে পারতাম কিনা জানিনা। আমি চিটাগং চার বছর থেকেছি, কক্সবাজার বারংবার এসেছি কিন্তু সেন্টমার্টিন আমার কাছের স্বপ্নের মতই ছিল যা আজ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এর জন্য নকরেক আইটির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। 
তিনি আরো বলেন, সমুদ্র অনেক বিশাল, এ বিশালতা সান্নিধ্য পেলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়, বার বার সমুদ্রের কাছে আসতে চাই।

এদিকে যেখানেই তন্ময়ের ক্যামেরা সেখানেই সেংমির দৌড়াদৌড়ি দেখে তন্ময় বলে ফেললো সেংমি আণ্টি ভালোই দৌড়াতে পারে। 
এদিকে বুঝা গেল একজন সবার মত প্রকাশ্যে আনন্দ করবেনা কিন্তু আনন্দের ছাড়ও দিবেনা। কিন্তু সমুদ্রের কাছে এসে আসলে নিজের আনন্দ কি আর বেশিক্ষণ গোপনে রাখা যায়?
না-আনন্দ গোপন করে রাখতে পারলেন না হেলেনা চিসিমও। প্রথমদিন ভেবেছিল সমুদ্রে নামবোনা কিন্তু সমুদ্রের স্পর্শ কি আর মিস করা যায়। শুরু হলো সমুদ্রে গিয়ে তার নাচের মুদ্রা দেখানো। সমুদ্রে তিনি আপন মনে নাচ শুরু করলেন, এ যেন এক অন্য অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।




হেলেনা চিসিম বলেন, আমি অনেক অনেক খুশি এবং অন্য এক সুন্দর বাংলাদেশ দেখলাম। কখনো ভুলবনা আর সুযোগ পেলে আবারো আসতে চাই।

রাতে চললো বাহারী রকমের আচার কেনা আর খাওয়া দাওয়া। বৃষ্টী তেতুলের আচার কিনে ত মুন বলের আচার কিনে, অন্যদিকে জ্যোতি মনি মুক্তা কিনে আর হেলেনা এবং তন্ময় শুটকি কিনায় ব্যস্ত। সিইও সাহেব তাদের সবার আনন্দময় মুহুর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করাতেই যেন আনন্দ খুজে পান। অন্যদিকে সেংমি স্টাইলিশ টুপিগুলো পরখ করে চুপি চুপি দেখলেও সিইও সাহেবের ক্যামেরা ফাকি দিতে পারেননি।

সবাই এত পরিমাণ শুটকি নিল তাও আবার একটি দোকান থেকে, তারাই যেন সেই দোকানের শুটকি এর ব্র্যান্ড এম্বাসাডর। এমন পোজ দিয়ে তারা আবার দোকানদারের সাথে ছবিও তুলে নিল। মুনের দরকষাকষি আর জুই এর প্রত্যকটা শুটকির দাম জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে গিয়ে দোকানদার মামা হাসি দিয়ে বলেই ফেললেন, মামা হাস্তে কইন যে, মুই ত সামাল দিবা পায়নাযে!!!
এদিকে সেংমি ত চিটাগং দীর্ঘদিন ছিলো তাই চাটগায় ভাষা ত পারেই, সেও মসকরা করা শুরু করে দিল, মামা দাম ত বেশি বেশি কয়েন না যে!!!



রাতে যখন সবাইকে বলা হলো, সবার জন্য ফানুস উড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবার মনে আলোর ঝলকানি বয়ে গেলো কিছুক্ষনের জন্য। রাত তখন প্রায় ১১টা। সেন্টমার্টীনের আকাশে উড়বে হরেক রকমের ফানুস। সেটা ভাবতেই জুই বলে ফেললো, ওয়াও আজ ফানুসের সাথে সব স্ট্রেস আর ক্লান্তি উড়িয়ে দেবো। সেংমি বলে ফেললো, ফানুসের সাথে আমরাও উড়ে যাবো। তন্ময় বলল, হেনাকে লাল ফানুসটার সাথে আর সবুজ ফানুসটার সাথে মনাকে উড়ালে কেমন হয়


ফানুস উড়ানোটা বীচে বুঝি সবচেয়ে কঠিন কাজ, যা উড়াতে গিয়ে সবার যেন করুণ দশা। এত বাতাসের মধ্যে ম্যাচের আগুন জ্বালানোটাই ছিল যেন চ্যালেঞ্জিং। শেষতক বীচে অনেক যুবক আরাম করে বসে থেকে যারা সমুদ্রের বিশালতা উপভোগ করছিলেন তারা এগিয়ে এলেন তাদের লাইটার নিয়ে এবং সেন্টমার্টিনের আকাশে দেখা গেল হরেক রকমের ফানুস। ভিডিও আসছে নকরেক আইটি ইউটিউব চ্যানেলে।

সবার জন্য সেন্টমার্টিন সফর প্রথমবার হলেও নকরেক আইটি এর সিইও এর জন্য ছিলো এই সফরটি দ্বিতীয়বারের মত সেন্টমার্টিন সফর। তিনি বলেন আমি যখন ২০১৪ সালে সেন্টমার্টিন সফর করেছিলাম যেমনটি আমার আবেগ ছিলো সেন্টমার্টিনের জন্য আমার আবেগ প্রায় একই, বারংবার আমি সুযোগ পেলেই এখানে এসে কিছু সময় কাটাতে চাই। তবে তিনি এও বলেন, আগে এত মানুষ আর দোকানপাট ছিলনা, এখন অনেক যত্রতত্র দোকানপাট আর কিছুটা ময়লা আবর্জনা লক্ষণীয় হচ্ছে। তিনি ট্যুরের আগে সবাইকে সতর্ক করেন এই বলে যে, সবাই রিফ্রেশমেন্ট ট্যুরে যাচ্ছেন, দয়া করে কেউ যেন কোন চিপস বা বিস্কুটের প্যাকেট সমুদ্রে কিংবা বিচে ফেলে না আসেন এবং সমুদ্রের নুড়ি পাথরগুলোও কেউ যেন নিয়ে না আসেন। পরিবেশ যেন নোংরা না হয় এ ব্যাপারে সবার প্রতি তিনি দৃষ্টি আরোপ করেন এবং সবার সুন্দর এবং সফল ট্যুর কামনা করে বলেন, নকরেক আইটি একটি পরিবার, এ পরিবারে যারা যুক্ত হয় তাদের সফলতা আনয়ন করাই নকরেক আইটির সর্বোত্তম প্রচেষ্টা।



তিনি মূল্যায়নের সময় এও বলেন নকরেক আইটি আপনাদের জন্য কি সেবা দিবে আপনাদের চিন্তা করতে হবেনা, শুধু নকরেক আইটি পরিবারের প্রত্যাশা এই যে, নকরেক আইটি পরিবার আপনার প্রতি যেমন ডেডিকেটেড ঠিক তেমনি আপনিও ডেডিকেটেড থাকুন তাহলে সফলতা নিশ্চিত। তিনি সবাইকে বলেন আপনারা নকরেক আইটি পরিবারকে বিশ্বাস করে অনেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইনে এডমিশন নিয়েছিলেন। ক্লাশ চলাকালীন সময়ে অনেকেই অনলাইনে সফল হচ্ছেন এবং সফলতার মুখ দেখে অনেকেই বিশ্বাস করে যে ইংলিশ ফর লাইফ (জীবনের জন্য ইংরেজী শিক্ষা) কোর্সটা করছেন তা বাংলাদেশের অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এমন সার্ভিস দিতে পারবেনা যা ইতিমধ্যে আপনারা সাইফুরস, মেন্টরস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ করে ফিরে এসেছেন। আপনাদেরকে নকরেক আইটি কথা দেওয়াতে বিশ্বাসী নয়, বরং প্রমাণ দেওয়াতে বিশ্বাসী বলে তিনি তার কথা ব্যক্ত করেন এবং সবার জন্য সুখবর দেন এই বলে যে, মার্চ থেকে নকরেক আইটি ইন্সটিটিউট-এ প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং, ওয়েব ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং, ইংলিশ ফর লাইফ এই তিনটি ইন্টারন্যাশনাল কোর্সের পাশাপাশি চালু করতে যাচ্ছে সফটওয়ার টেস্টিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ফ্রিল্যান্সিং।




নকরেক আইটি এর মেন্টর আরো যুক্ত করে বলেন, ইন্টারভিত্তিক কাজ বাংলাদেশে পুরোদম্ভর শুরু ২০১০ সাল থেকে হলেও গারো আদিবাসীদের ইন্টারন্যশনালী এই প্রফেশনাল সেক্টরে স্কিল্ড ২০/৩০ জন প্রফেশনালও খুজে পাওয়া যেতনা ২০১৭ সাল পর্যন্ত যা কিনা ২০১৭-২০১৮ সালের অর্ধবছরে মাত্র ৬ মাসেই অর্ধশত আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে এই প্রফেশনাল সেক্টরে নকরেক আইটি সংযুক্ত করতে পেরেছে এবং তারমধ্যে সিংহভাগই গারো জনগোষ্ঠী। ইতিমধ্যে কোর্স শেষ করার আগেই অনেকেই অনলাইনে কাজ শুরু করছে নকরেক আইটি থেকে কোর্স করে। এও উল্লেখ্য যে, অনেকেই যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ শিখে হতাশ হয়ে এসেছে তাদের জন্যও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এই নকরেক আইটি ইন্সটিটিউট। ১০ জনেরো অধিক স্টুডেন্ট আছে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখে তেমন কিছু পারেনি এখন তারা দক্ষ হয়ে কাজ করছে নকরেক আইটি পরিবারে জয়েন করার পর। নকরেক আইটি পরিবারে ঘরে বসে কাজ শিখছে অনেক ব্যাংকার, সরকারী চাকরীজীবী, এনজিও কর্মী, ছাত্র/ছাত্রী, গৃহিণী এবং তারাই যারা জীবনকে অন্যের অধীনে রেখে অন্যের উপর নির্ভর করতে চায়না, নিজে থেকে কিছুর প্রয়াস চালায়। নকরেক আইটিতে কোর্সের পর থাকছে ইন্টার্নশীপ এর সুযোগ এবং যোগ্যতম ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে চাকরীর অফার পাচ্ছেন নকরেক আইটি পরিবারে টীম হিসেবে কাজের জন্য। ইন্টার্নশীপ এবং জব অফার নকরেক আইটি পেইজে গেলেই দেখা যাবে রিকুয়ার্মেন্টসহ। 


নকরেক আইটি পরিবার সম্পর্কে ছাত্র/ছাত্রীদের মন্তব্য এবং আপডেট পেতে নকরেক আইটি এর অফিসিয়াল পেইজে যুক্ত হয়ে আপডেটেড থাকুন। (www.facebook.com/NokrekIT) এবং ওয়েবসাইটঃ www.nokrekit.subirnokrek.net


নকরেক আইটি পরিবারের স্টুডেন্টদের সফলতার গল্প শুনতে নিচে ক্লিক করুন।

  1. https://www.youtube.com/watch?v=9whgQqKqJJI
    2. https://www.youtube.com/watch?v=eib69eyERjw
    3. https://www.youtube.com/watch?v=Y8DW35Oyp5Q
    4. https://www.youtube.com/watch?v=JqbNWbeJxL0
    5. https://www.youtube.com/watch?v=qRWErsQQPCI 

নকরেক আইটি এর কোন কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ
https://goo.gl/PoGXnq

নকরেক আইটি পরিবারে জয়েন করার পূর্ব শর্তই হচ্ছে মনস্থর করতে হবে। মূল কথাই হচ্ছে- মনস্থির করুন, দক্ষ হোন, নিজেই নিজের বস হোন।



Sharing is caring! Please share with friends & family if you find this website useful

1 thought on “নকরেক আইটি পরিবারের আনন্দভ্রমণ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ দর্শন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *