আজ বিশিষ্ট কবি জেমস জর্নেশ চিরান-এর ৫৯ তম জন্ম দিনঃ শুভ জন্মদিন কবি

আজ বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গীতিকার জেমস জর্নেশ চিরান-এর জন্ম দিন। দ্য গারোজ ২৪ এর পক্ষ থেকে কবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন কবি।

জেমস জর্নেশ চিরান ১৯৫৯ সালের ২ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দুঃসময়ের বসত ভিটা’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “জ্যোৎস্না নেই পূর্ণিমা নেই”। কাব্যগ্রন্থটি ১১ জন গারো কবির কবিতা সংকলণ। গ্রন্থটির সংকলক ছিলেন বাবুল ডি’ নকরেক। প্রকাশকাল ২০০৪ সাল। তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘না দৈর্ঘ না প্রস্থ’ প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে।

জেমস জর্নেশ চিরানের কবিতা, গান এবং গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ মন কেড়ে নেয় পাঠক সমাজের। তিনি ১৯৮১ সালে ‘আর্চ বিশপ গাঙ্গুলী সাহিত্য’ সম্মাননা অর্জন করেন।

ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং একমাত্র সন্তানের জনক। তাঁর ছেলে হিমেল রিছিলও কবি ও লেখক। হিমেল সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে এনজিও কর্মী এবং সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য এবং দীরঘায়ূ জীবন কামনা করি।

আ.বিমায় উচ্ছেদ নোটিশ

যেখানে একদা পরম মমতায়
নি:চিন্তে ঘুম যেতো
আ.বিমা কন্যাদের,
ডেকে উঠতো ঘন বনের
পিয়াসী পাখিরা।
সেখানে কী যাওয়া হবে আর?
সেই পঁচিশ মাইল, জলছত্র, সেই
দুখলা-চুনিয়াই?
গেলেও কী আর আগের মতো পাবো?
বদলে যায় দিন,বদলে যায় মানুষ,
বদলে যায় পরিস্থিতি-পরিবেশ।
কতোনা নিবিড়-গভীর প্রেমে
সহজ-সারল্যটায় এই গ্রাম সেই গ্রাম অরণখোলার সমস্ত মান্দি
গ্রামের মানচিত্র ধরে ধরে আকুল আবেগী হয়েছি,
ঘুরেছি, শুনিয়েছি সোহাগী সঙ্গীত-
সেই যে তেলকী-জলই-গায়রা-গাছাবাড়ী আমনিতলা
কবিতার নতুন শব্দের মতো
একেকটি শিহরিত নাম।
বড়োই দু:সংবাদ!
আ.বিমা কন্যাদের কাছে
বন বিভাগের আবারও
উচ্ছেদ নোটিশ।
আহা কী ভীষম দরদী
মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার!

শব্দ শ্রমিক

খননকর্মে নিষ্পেষিত গলদঘর্ম
একজন শব্দ শ্রমিক।
শৈলীয় যন্ত্রণায়
অসম্ভব ব্যাথায় কুকরাই
আতুর ঘরের রমনীর মতো।
কী সন্তান জন্ম দেবে সে?
কী হবে লিঙ্গ পরিচয়?
কী না-ম দেবে তার
রতন না রত্না ?
স্বপন না স্বপ্না?
কী চায় মাতৃসূত্রীয় সমাজ
পুত্র না কন্যা?

শব্দ পাহাড়ের খননকর্ম
হয়না শেষ,
প্রছণ্ড পরিশ্রমে নষ্ট হয়ে যায়
গর্ভের সন্তান।

১০/০৫/১৬, চরবাঙ্গালিয়া।

তোমাকে দেখার পর

তোমাকে দেখার পর
প্রষ্ফুটিত গোলাপ
হয়ে গেল নিষ্প্রভ,
জ্যোৎস্নাকেও মনে হলো
অতোটা রূপসী নয়।

তাহলে তুমি কী সেই
রহস্যপুরীর রহস্য কবিতা?

স্বপ্ন জ্বালা

যৌবনকালে বন্ধুরা বলতো,
রাতের স্বপ্নে যাকে তুমি
যেভাবে দেখো,
স্বপ্ন দেখার পর
বালিশ উল্টিয়ে ঘুমালে
সেও সেভাবেই স্বপ্নে তোমাকে
দেখবে।

প্রিয়জনেরা!
মিথ্যে নয়-কতো বিচিত্র স্বপ্ন
দেখার পর শতবার বালিশ উল্টিয়েছি,
সেও যাতে হয় আমার
স্বপ্নের শরীক,
দেখুক সে-ও মধুময় স্বপ্ন
বালিশ উল্টাক
বুঝুক স্বপ্নের দহন জ্বালা।

কী জানি আমাকে নিয়ে সে
স্বপ্ন দেখেছিল কিনা?
জ্বলেছিল কিনা
দহন জ্বালায়?

তথ্যসূত্রঃ থকবিরিম প্রকাশনী

Sharing is caring! Please share with friends & family if you find this website useful

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *